আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
রবিবার (২৬ জুলাই), রাত ১১টা ১০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের স্থাপনা ও অবকাঠামোর বড় অংশের কোনো হদিস মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে নিলাম বাবদ মাত্র ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা পড়ায় প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ যথাযথ নিলাম ছাড়াই অপসারণ বা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নগরের সিলিন্দা মৌজায় ৬৭.৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে রামেবি। জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা পাকা, আধাপাকা ভবন, সীমানা প্রাচীর, নলকূপ ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পরিশোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত চক্র এসব স্থাপনা অপসারণে জড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নিলামে কয়েকটি ভবন বিক্রি করে এনআরবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা পায় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বাকি স্থাপনাগুলোর কোনো নিলাম বা বিক্রির তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় একটি দোতলা ভবন ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় ভূমি ভরাটের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, কাজ শুরুর সময় সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর ছিল না এবং বালু ভরাটের আগেই সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর ভবন ভাঙা ও স্থাপনা সরানোর কাজ আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
এর আগে একই ক্যাম্পাসের প্রায় ২৫ হাজার গাছের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৬৪২টি গাছ নিলামে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। প্রায় ৮ হাজার গাছের কোনো হিসাব না থাকায় এ ঘটনায় উপাচার্যের কাছে তথ্য চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নতুন করে স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক নজিবুর রহমান বলেন, “আমি আট মাস আগে যোগদান করেছি। আগের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই। অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে মূল্য দেওয়া হয়, বাস্তবে নিলামে সেই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না। সে কারণেই প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারিত স্থাপনা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে। এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা।”