মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান সমন্বয় করে চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে রেখে একজন শিক্ষককে পাঠদান করাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়াজ মাহমুদ বাবর ছুটিতে থাকায় সহকারী শিক্ষক মু. আবছার উদ্দীন একই কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। অন্য একটি কক্ষে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন নারী শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক মু. আবছার উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটাতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিজেদের অর্থায়নে একজন স্থানীয় শিক্ষক রাখা হয়েছে। এরপরও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে সারাদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের বিশ্রামের সুযোগ থাকে না। এতে মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই কারণে বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষককে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হলে প্রত্যেক শিশুর প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পাঠ ঠিকমতো বুঝতে পারছে না এবং পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশব্যাপী নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো এখনো পূরণ হয়নি।
এ অবস্থায় দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, শিক্ষক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তালিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের মাধ্যমে শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইউ) ফিরোজ আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, লোহাগাড়া উপজেলায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে দ্রুত পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।