নিউজ ডেস্ক
রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬), রাত ৮:১৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও কুসুম খাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই হার্টের সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে ডিমের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর বেশিরভাগই ভুল। সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম খাওয়া নিরাপদ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না।
ডায়েটারি কন্সালট্যান্ট ডা. অরুণ কুমার জানান, একটি ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালোরি এবং ছয় গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিনকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা শ্রেষ্ঠ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর জৈব উপলভ্যতা বা শরীরে শোষিত হওয়ার ক্ষমতা ১০০ শতাংশ।
ডিমের কুসুম নিয়ে ডা. অরুণ কুমার বলেন, “একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। তবে শরীর সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রতিদিন প্রায় ২০০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল প্রয়োজন হয়, যা যকৃতেই উৎপাদিত হয়। কেউ দিনে দুটি ডিম খেলে শরীর তার নিজস্ব কোলেস্টেরল উৎপাদন কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।”
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে—এমনটা বলা হলেও ডিম থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব বেশি বাড়ায় না। হৃদরোগীরাও নির্ভয়ে প্রতিদিন একটি থেকে দুটি ডিম খেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ‘ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া’ নামক বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা প্রয়োজনে তিন থেকে চারটি ডিমও গ্রহণ করতে পারেন।
ডিমের পুষ্টিগুণ ও ভ্রান্ত ধারণা
ডিমের কুসুমে কোলিন নামক পুষ্টি উপাদান থাকে, যা স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া এতে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। ব্রয়লার মুরগি ও উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগির ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় সমান। মুরগিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব বলে জানান ডা. কুমার।
কাঁচা ডিম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কাঁচা ডিমে ‘সালমোনেলা’ নামক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা গুরুতর পেটের সমস্যার কারণ হয়। এছাড়া কাঁচা ডিমের ‘অ্যাভিডিন’ উপাদান শরীরে বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। তাই ডিম সবসময় সেদ্ধ বা ভেজে খাওয়াই উত্তম।