তানভীর আহমেদ, জাককানইবি প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ২০২৬, বিকেল ৫টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে চার দফা সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া এ বিরোধ পরে অগ্নিবীণা হল ও কলা ভবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁরা ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা এবং চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং দিদারুল ইসলাম নামে আরেক শিক্ষার্থী ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নজরুল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) ম্যাচ চলাকালে বল মাঠের সীমানার ভেতরে যাওয়া নিয়ে আয়োজক ও ফুটবল খেলতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বাগ্বিতণ্ডা থেকে শুরু হওয়া এ ঘটনা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে চড় মারার জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থীরা।
সংঘর্ষ ও প্রক্টরের ভূমিকা
কলা ভবনের সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কলা ভবনের পেছনে তিন শিক্ষার্থীকে রড ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর উপস্থিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা ও প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ছয়জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।”