মামুন রণবীর,নেত্রকোণা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন কেউ রুখতে পারবে না। এই শক্তি কারও নেই। একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
তিনি বলেন, যারা আজ পিআর পদ্ধতিতে না হলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, যারা বলছে উচ্চকক্ষে-নিম্নকক্ষে পিআর চায়— তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছে। গতকাল একটি রাজনৈতিক দলের সংবাদ সম্মেলন শুনলাম— যদি পিআর পদ্ধতির নির্বাচন না হয় তারা নাকি বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেবে না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, বিলম্বিত করতে চায়, বিভিন্ন ঠুনকো বাহানায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে। এই গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি আপনারা আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে। পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা আন্দোলনে লিপ্ত ছিলাম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন,যেই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, আমরা সেই গণতান্ত্রিক ঐক্যকে সমুন্নত রাখি। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আপনারা কেউ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করবেন না।
দীর্ঘ ১১ বছর পর নেত্রকোণা জেলা বিএনপির এই ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল,আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শনিবার দুপুরে জেলা সদরের মোক্তারপাড়া মাঠে শুরু হওয়া এই সম্মেলন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যানার-ফেস্টুন আর তোরণে ছেয়ে গেছে। সকাল থেকেই জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে শত শত নেতাকর্মী এসে দলে দলে যোগ দেন।
এই ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে দুজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ১০টি উপজেলার ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর সরাসরি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।