টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়িকে বাংলাদেশের জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবার ইউনেসকোর মর্যাদার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গৌরবের মধ্যেও চরম সংকটে পড়েছে তাঁত শিল্প। তাঁত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক পোশাকের ভিড় এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে, এবং বাকি ২০ শতাংশ কোনোমতে ধুঁকে ধুঁকে চলছে।
তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা মনে করছেন, ইউনেসকোর স্বীকৃতি অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলেও, জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই আন্তর্জাতিক মনোনয়ন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের কোনো কাজে আসবে না। ঐতিহ্যবাহী এই কারুশিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে সরকারি নজরদারি অত্যাবশ্যক বলে তাঁরা দাবি করছেন।

একসময় যেকোনো উৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের তাঁত পল্লীগুলোতে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁতের ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত থাকত। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই দৃশ্য আজ অতীত, আর বেশিরভাগ এলাকায় এখন শুনশান নীরবতা।
ইউনেসকোর এই মনোনয়নের আগে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল তাঁত শাড়িকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। তবে এই ঘোষণার সময় ভারতও টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি দাবি করায় দেশে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
তাঁত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শাড়ির নান্দনিক নকশা এবং নিপুণ হাতের কারুশিল্পের এই ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়—শিল্পটিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।