মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শুক্রবার (৬ নভেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত তিন শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক গুপ্ত জমিদার বাড়িটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ১২০ কক্ষের এই বিশাল স্থাপনার অধিকাংশ এখন বিলীন হয়ে গেছে, বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ২০টি কক্ষ। জরাজীর্ণ এই ভবনের দেয়াল ও ছাদে জন্মেছে আগাছা, যা যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয়ভাবে ‘অদ্দার বাড়ি’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি জমিদার রামমোহন গুপ্ত নির্মাণ করেন। কাঠ, চুন, সুরকি ও ইট দিয়ে নির্মিত বাড়িটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল—বাইরের অংশে ছিল কাছারিঘর এবং ভেতরের অংশটি ছিল অন্দরমহল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর থেকেই বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণে ভাটা পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ ও মূল্যবান পুরাকীর্তি লুটের ঘটনায় এর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের অধিকাংশ কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া, ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ফটক ও দেয়ালের ফাঁকে বটগাছের চারা জন্মানোর ফলে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে জমিদার পরিবারের কয়েকজন উত্তরসূরি চরম ঝুঁকি নিয়ে এই জরাজীর্ণ ভবনে বসবাস করছেন।
পদুয়া জমিদার বাড়ির নিকটাত্মীয় ও প্রধান শিক্ষক সুনীল চৌধুরী বলেন, “গুপ্ত জমিদার বাড়ি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। সংস্কারের অভাবে এটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সরকার উদ্যোগ নিয়ে বাড়িটি সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।”
সাংবাদিক পুষ্পেন চৌধুরী বলেন, “ঐতিহাসিক এ বাড়ি সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের। অবিলম্বে পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয়রা বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, “পদুয়া জমিদার বাড়ি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”