স্টাফ রিপোর্টার।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত প্রখ্যাত সাধক আউলিয়াগণের অন্যতম হযরত মিয়া চান্দ শাহ (রহ.)-এর মাজার শরীফকে ঘিরে বছরজুড়ে ভক্তদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মহান সাধকের নামানুসারেই চান্দপুর এলাকার নামকরণ হয়েছে।
জানা যায়, হযরত মিয়া চান্দ শাহ (রহ.) ছিলেন হযরত শাহ শামসুদ্দীন বুখারী (রহ.)-এর আত্মীয়। প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ বছর আগে চান্দপুর ইউনিয়নের সেকেরপাড়া গ্রামে তাঁর মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘চুনের মাজার’ নামে পরিচিত।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেকেরপাড়া গ্রামে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর বসবাস ছিল। পরবর্তীতে হযরত মিয়া চান্দ শাহ (রহ.)-এর আগমনের পর ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি গড়ে ওঠে। অনেকের মতে, মুসলমানদের বসবাস শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকার নাম সেকেরপাড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
কটিয়াদী সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ মাজারে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার উরস অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসের ২০ তারিখে বাৎসরিক উরস মাহফিল আয়োজন করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী ভক্ত মাজারে সমবেত হন।
মাজারটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো চুন উৎসর্গের প্রচলন। ভক্তরা মাজারে এসে চুন কিনে মাজারের দেয়াল, বেষ্টনী এবং শতবর্ষী বট, জাম ও পাইন গাছের গুঁড়িতে নিজ হাতে চুনের প্রলেপ দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রথা চলমান থাকায় মাজারের বিভিন্ন অংশ সাদা চুনে আবৃত হয়ে গেছে। মাজারের সামনে সারিবদ্ধভাবে থাকা কয়েকটি দোকানে চুনের পুটলি বিক্রি করা হয়। এছাড়াও ভক্তরা ছাগল, ভেড়া, মুরগি, মোমবাতি, আগরবাতিসহ বিভিন্ন সামগ্রী দান করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত মিয়া চান্দ শাহ (রহ.)-এর স্মৃতি সংরক্ষণে কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী এলাকায় ‘হযরত মিয়া চান্দ শাহ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কারণে হযরত মিয়া চান্দ শাহ (রহ.)-এর মাজার শরীফ আজও এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।