কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৯টি দানসিন্দুকে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। চলছে গণনার কাজ। ৪ মাস ১৮ দিন পর শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান (যুগ্ম সচিব) ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর নেতৃত্বে মসজিদের দানসিন্দুকগুলো একে একে খোলা হয়।
এরপর প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেয়া হয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় শুরু হয়েছে গণনার কাজ। দানসিন্দুক থেকে নগদ টাকা ছাড়াও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। গণনায় পাগলা মসজিদ মাদ্রাসা ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মোট ২৫০ জন ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৩২০ জন অংশ নেন।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ছাড়াও মসজিদ-মাদ্রাসার ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণনায় অংশ নিয়েছেন। এবার ৩ মাস ২৬ দিন পর মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল মসজিদের দানসিন্দুক থেকে পাওয়া গিয়েছিল ২৮বস্তা টাকা। গণনা শেষে মোট পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। উল্লেখ্য যে, প্রতি তিন থেকে চার মাস পর পর এই সিন্দুক খোলা হয়। এবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সিন্দুকগুলো খোলার কাজ শুরু হয়। প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে মেঝেতে ঢালা হয়। এরপর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।
জানা যায়, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে এই মসজিদে দান করছেন। যারা দান করতে আসেন তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার নাকি তাদের মনের আশা পূরণ হয়। ফলে দিন দিন বাড়ছে দানের পরিমাণ। এ টাকা দিয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিমে শহরতলীর হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে ৩.৮৮ একর ভূমির ওপর সম্প্রসারিত পাগলা মসজিদ এলাকায় মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বভাবতই ঐতিহাসিক এই মসজিদকে নিয়ে জেলার ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই গর্ববোধ করেন।