আলভী আহমেদ, বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সকল আবাসিক হলগুলোতে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আয়োজিত হয়েছে হল ফেস্ট-২০২৫। ৪৬ ব্যাচের বিদায় উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
সন্ধ্যায় অতিথিদের আসন গ্রহণ ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হল প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
ফেষ্ট উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী হলগুলোতে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। বিভিন্ন হলে ফুটবল, শর্টপিচ ক্রিকেট, ক্যারাম, টেবিল টেনিস, দাবা, কার্ড ইত্যাদি খেলার আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিন সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের জন্য একটি সাইকেল গ্যারেজ বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ। ৪৬তম ব্যাচের যাদের বিদায়, তোমাদের পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা রইল। তোমাদের মধ্যে কেউ কর্মজীবনে প্রবেশ করবে, কেউ আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে—সবার জন্যই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন, জুনিয়ররা সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখবে। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক, কিন্তু বুটেক্সের গ্র্যাজুয়েটরা খুব দ্রুতই চাকরি পায় এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে—যেখানে একজন শিক্ষার্থী একসময় ১ থেকে ২ হাজার মানুষকে নেতৃত্ব দেয়। তাই তোমাদের উত্তরোত্তর সাফল্য ও উপস্থিত সবার সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের হল প্রভোস্ট ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আজকের আয়োজন ছিল ৪৬তম ব্যাচকে সামনে রেখে। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা অনেক পরিশ্রম করেছে—অনুষ্ঠানকে সফল করতে তারা গভীর রাত পর্যন্ত খেলাধুলা ও হলের নানা কাজে অংশ নিয়েছে। ৪৬তম ব্যাচের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হল ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে তাদের অনেকবার বকেছি, আবার তাদের উন্নতির জন্য পরামর্শও দিয়েছি।
তাদের জীবনের এখন নতুন ধাপের সূচনা। আমি তাদের ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানাই। আশা করি তারা বুটেক্সের ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে এবং বুটেক্সকে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডে রূপ দেবে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরকে আরও এগিয়ে নিতে তারা যে সুযোগ-সুবিধা পাবে, তার যথাযথ ব্যবহার করবে—এই প্রত্যাশা করি
সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ৪৭ তম ব্যাচের হল প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম বলেন, মাত্র চার দিনের প্রস্তুতিতে আমরা এ আয়োজন সম্পন্ন করেছি। ২৪ তারিখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা বিভিন্ন সাব-কমিটিতে ভাগ হয়ে ইন্টার্নালি প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা করি। কিন্তু পরে আমরা বড় পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সাতটি বিভাগে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয় এবং প্রতিটি খেলায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাপ্রিশিয়েশন হিসেবে বিদায়ী হল প্রতিনিধিদের সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে এবং শেষে র্যাফেল ড্র এর আয়োজনও করা হয়। আমরা এবার প্রথমবারের মতো ‘র্যাগ ওয়াল’ এর আয়োজন করেছি এবং অনুষ্ঠানটি আয়োজনে হল প্রশাসন কোনো কার্পণ্য করেনি। মাহবুব স্যারের মতো একজন ডাইনামিক হল প্রভোস্ট থাকার কারণে আমরা কখনো নিরুৎসাহিত হইনি, বরং সবসময় পাশে থেকেছেন। ৪৬ থেকে ৫০তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সুন্দর আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০তম ব্যাচের বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলের শিক্ষার্থী ফাইজা ফারজানা রাফা বলেন,হল ফেস্ট নিয়ে আমি ভীষণ উৎসুক ছিলাম। এটা আমার জীবনের প্রথম হল ফেস্ট। পূর্বে যারা হল ফেস্টে অংশ নিয়েছিল তাদের থেকে অনেক গল্প শুনতাম,সেসব শুনে ভীষণ ভালো লাগত। হল সাজসজ্জার কাজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্র্যাকটিস—এসবের মধ্যেই বন্ধু আর সিনিয়রদের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে। আজ সবাই মিলে শাড়ি পরে উৎসবে অংশ নেওয়া সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। ভিসি স্যার ও ম্যাডামরা যখন উপস্থিত হলেন, তখন বুঝতে পেরেছি তারা আমাদের জন্য কতটা আবেগী। বিশেষ করে ৪৬তম ব্যাচের জন্য মাহমুদা ম্যাডাম ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলো আমাদের কাছেও দারুণ মনে হয়েছে।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কিশোর সাহা বলেন, হল ফেস্ট আমাদের জন্য শুধু বিনোদনের নয়, বরং বন্ধুত্ব, ঐক্য আর সৃজনশীলতা প্রকাশের এক অনন্য সুযোগ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা আর আড্ডায় সত্যিই দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পরিশেষে নৈশভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় হল ফেস্ট-২০২৫। সর্বোপরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীদেরই আশা প্রতি বছরই এইরকম বড় পরিসরে আয়োজন হোক হল ফেস্ট।