নিউজ ডেস্ক
বুধবার (৯ অক্টোবর), ২০২৬ | সকাল ১১টা ৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অক্টোবর মাসে ব্যাংক খাত থেকে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ। বকেয়াসহ নতুন বেতন স্কেল পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় মেটাতেই এই বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আয়ের ধীরগতি এবং বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ায় সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না এবং বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে।”
সাধারণত প্রতি রবিবার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে সরকার ঋণ নিয়ে থাকে। গত সপ্তাহে বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের মাধ্যমে ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে সোমবার নিলামের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের পরিমাণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল।