জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
সোমবার (১২ অক্টোবর), রাত ৮টা ৪৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া অলংকার গণনায় ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যালংকার পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ ও ক্যারেট যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর পর দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হয়। বেলা সাড়ে ৫টার দিকে স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকার ওজন নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছ জানান, বৈদেশিক মুদ্রার গণনা শেষ হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পরবর্তীতে তা নিলামে বিক্রি করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
নিলাম ও অনুদান প্রক্রিয়া
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা পড়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলংকার নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের ২৭ জুন দানবাক্স খুলে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান জমা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন।’
জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ সম্পন্ন করছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।