নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার (১২ অক্টোবর) ২০২৬, রাত ৮টা ১৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা দেখা করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহাসহ ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।