নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর), রাত ৮টা ৩৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিজেপি সরকার। অভিযানে শত শত বাঙালি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
গত ১ নভেম্বর ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব চক্রের অধীন আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি দখলমুক্ত করার নামে চালানো এই অভিযানে অর্ধশতাধিক এক্সকাভেটর ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এতে ৬৪০টির বেশি পরিবারের চার হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অভিযানের সময় নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বুলডোজার মসজিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় নারীরা প্রার্থনা করছেন। উচ্ছেদ হওয়া অনেক বাসিন্দা দাবি করেন, তারা ভারতের নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন।
ধুবড়ি জেলা প্রশাসন জানায়, জমিটি সরকারি এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং উচ্ছেদের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আসামে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে চালানো বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বাসতচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর ভোটাধিকার নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। স্থায়ী ঠিকানা ও বসবাসের প্রমাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা বা পুনরায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।