ফরিদ আহমেদ, নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এ বছর ১৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপে ডিজে গান বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট সময়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিজয়া দশমীর দিন রাত ১০টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ আব্দুল মান্নান।
সভায় এম এ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দলমত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। দুর্গাপূজায় আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভাই ভাই হিসেবে কাজ করব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব উদ্যাপনে একে অপরকে সহযোগিতা করব।’
নবীনগরের কোনো শ্মশান বা মন্দিরে সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
নিরাপত্তায় যেসব নির্দেশনা
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপে ডিজে গান বাজানো যাবে না। প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে পরদিন সকাল সাতটা পর্যন্ত মণ্ডপের আশপাশে মোটরসাইকেল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিজয়া দশমীর দিন রাত ১০টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বাসিন্দারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
সভায় বক্তব্য দেন পূজা উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিনয় চক্রবর্তী, শ্যামল চক্রবর্তী, মানিক বিশ্বাস, সীতানাথ সূত্রধর, মিঠু সূত্রধর পলাশ, কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, আর সি রঞ্জন দাস ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু।
এ ছাড়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অনন্ত ভদ্র, এনসিপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, জামায়াত নেতা মোখলেছুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ, নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল শান্তি এবং নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার ১৩২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদ্যাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।