বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সারা দেশের ন্যায় যশোরের বাঘারপাড়ায় গভীর শ্রদ্ধার সাথে ৫১ তম মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো পৃথক কর্মসূচি পালন করে।
এদিন উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ৩১ বার তোপধ্বনি, পুষ্পমাল্য অর্পণ, কুচকাওয়াজ, প্রতিযোগিতামুলক খেলাধুলা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি।
শনিবার (২৬মার্চ) সকাল ৭ টায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মোল্যা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এরপর শ্রদ্ধা জানান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিযয়ক সম্পাদক ইঞ্জি: বিপুল ফারাজীর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের অপর অংশ, উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পৌরসভা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সকাল ৮ টায় বাঘারপাড়া পাইলট হাইস্কুল মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাতে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক মঞ্চস্থ হয়।
এদিকে এদিন সকাল ৯ টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সংগঠনটির দলীয় কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি রনজিৎ কুমার রায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিক্কার আলী জুলাই, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খন্দকার শহীদুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আতিয়ার রহমান সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আজগার আলী, শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, মুন্সি বাহার উদ্দিন, নিখিল কুমার আঢ্য, গোলাম সরোয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু কুমার সাহা, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্য়বায়ক কামরুজ্জামান লিটন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রনজিৎ রায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব। নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রাহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় বিজয়। সেই বিজয় বয়ে আনে বাঙালির কাঙ্খিত মুক্তি।