নিউজ ডেস্ক
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | রাত ৮:২৪
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেও দেশটির তেল বিক্রির অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকের তেল আয়ের ডলার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই আর্থিক ব্যবস্থার কারণে বাগদাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন এখনো বড় ধরনের প্রভাব বজায় রেখেছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে তেল থেকে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি (সিপিএ) ইরাকের তেল আয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন কাজের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক (ডিএফআই) গঠন করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্বাহী আদেশে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা পরবর্তী সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট নবায়ন করেছেন। বর্তমানে এটি ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সিবিআই) একটি হিসাব হিসেবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে পরিচালিত হচ্ছে।
ইরাকের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যবস্থা দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক ফেডের মাধ্যমে তেল আয়ের ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরাকের অর্থ পরিচালনা নিয়ে আস্থা বাড়ায়। এছাড়া বাণিজ্য ও আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ডলারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতেও এটি সহায়তা করে।
আর্থিক প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি
নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে এই আর্থিক সম্পর্ক ইরাকের সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। ২০২০ সালে ইরাক সরকার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালে ওয়াশিংটন নিউইয়র্ক ফেডে থাকা ইরাকের তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। এছাড়া ডলার পাচারের অভিযোগে ইরাকের বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যক্তির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি করেছে।
ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবে ডলার সরবরাহের জন্য ‘ডলার নিলাম’ ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও ২০২৫ সালের শুরুতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পক্ষগুলোর কাছে ডলার পাচার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে সামরিক উপস্থিতি শেষ হলেও তেল আয়ের অর্থ ও ডলার ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে।