নিউজ ডেস্ক
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর), রাত ৯টা ৩৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সিংহস্থ কুম্ভ ২০২৮-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তা চওড়া করার সময় মসজিদটির একটি অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
উজ্জয়িনীর ছত্রি চক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটির ইতিহাস প্রায় ৬৩৬ বছরের পুরনো। ওয়াকফ বোর্ডের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৩৯০ সালে মুসলিম সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মসজিদটি নির্মিত হয়। ইতিহাসবিদ জাফর আনসারির মতে, এটি মুঘল-পূর্ব মালওয়া অঞ্চলের সুলতানশাহী আমলের একটি স্থাপত্য।
১৯২৫ সালের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন গোয়ালিয়র স্টেটের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট মসজিদটিকে ‘মোচিয়ান কি মসজিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশ গেজেটে একে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। মসজিদ কমিটির দাবি, তাদের কমপ্লেক্সের ৪,৬০০ বর্গফুট আয়তনের মধ্যে ১৯টি দোকান ও দুটি বাড়ি রয়েছে।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে বিকল্প পথের প্রস্তাব দেওয়া হলেও হাইকোর্ট মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দেয়। তবে পরবর্তীতে প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির মধ্যে সমঝোতা হয় এবং কর্তৃপক্ষ মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিজেরাই সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।
উজ্জয়িনীর কালেক্টর রোশন সিং বলেন, “সিংহস্থ ২০২৮-এর প্রস্তুতির জন্য মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাস্তা সম্প্রসারণ ও অন্যান্য নির্মাণকাজ চলছে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ স্বেচ্ছায় এতে সহযোগিতা করছেন। ছত্রি চকের শাহী মসজিদের ক্ষেত্রেও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন স্বেচ্ছায় সেই অংশ সরিয়ে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবার কাছে আবেদন করছি, কোনো গুজবে কান না দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন।”
এই রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের পৈতৃক বাড়ির অংশও পড়েছে, যা তিনি নিজেই ভাঙার কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির ও শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকাটি দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রতীক।সুত্র-বিবিসি