জেলা সংবাদদাতা, শরীয়তপুর
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী। এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে আদালত চত্বরে মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ওরফে টিপু মাদবর।
মারধরের শিকার আইনজীবী সানোয়ার মল্লিক বলেন, “শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দুইদিন আগে কয়েকজন আইনজীবী কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর জেরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করে আমাকে মারধর করেন। মাহবুব মোর্শেদ ও তার ছেলে মিহির আমাকে রড দিয়ে মারধর করেছেন। তাদের ভয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারিনি। বেসরকারি একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিয়ে আত্মগোপনে আছি।”
মিছিল শেষে আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। আইনজীবী তানিয়া সুলতানা বলেন, “প্রায় ৩০-৩৫ জন লোক আমাদের চেম্বারে ঢুকে পড়েন। এ সময় শাহীন খান টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হচ্ছে প্রশ্ন করায় আমাকেও গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে। মিছিল থেকে কেউ কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে কারা করেছে, তা আমি জানি না।”
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, “আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা আমরা জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আইনজীবী সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”