1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
এতিম তিন ভাই পেল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ - bdtelegraph24.com
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে কলোনিতে অগ্নিকাণ্ড: ৮ কক্ষের মালামাল পুড়ে ছাই কুষ্টিয়ায় লালন মাজার এলাকায় হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভূমিহীনদের চাকরি না দেওয়ার বিধান কোথায়, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর চাকরিপ্রার্থীর ভেরিফিকেশনে বাধা: জমিহীন তরুণকে জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ পাকিস্তানি নারী এজেন্টের সঙ্গে তথ্য পাচার: ভারতীয় নৌবাহিনীর নাবিক গ্রেপ্তার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা ঢাকা জেলায় সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হবে লটারির মাধ্যমে

এতিম তিন ভাই পেল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৫১ জন খবরটি পড়েছেন

বাবা মারা গেছেন প্রায় এক যুগ আগে। তাই একই সঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন ভাইয়ের সবকিছুই তাদের মা। সেই মায়ের পরিশ্রম সার্থক করেছেন এই তিন ভাই। তিন ভাই মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

বিরল এই ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ী গ্রামে। তিন ভাই হলেন, মো. মাফিউল হাসান, মো. সাফিউল ইসলাম ও মো. রাফিউল হাসান। তাদের বাবা গোলাম মোস্তফা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি মারা যান। এরপর থেকে মা আর্জিনা বেগম তার সন্তানদের আগলে রেখেছেন। নিজের সর্বস্ব দিয়ে সন্তানদের সুশিক্ষিত হিসেবে বড় করতে সংগ্রাম করে গেছেন। তার ফলও পেয়েছেন আর্জিনা বেগম।

সরেজমিনে সোমবার বিকেলে বথুয়াবাড়ী গ্রামে গিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য তাদের প্রচেষ্টা গল্প নিয়ে আলাপ হয়। তিন ভাই মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ করেছেন ধুনট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ২০২০ সালে সেখান থেকে তিন ভাই এসএসসিতে সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে পাস করেন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য তারা ভর্তি হন বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজে। ২০২২ সালেও তিন ভাই সব বিষয়ে এ প্লাস পান।

তবে ২০২৩ সালে প্রথমবারের চেষ্টায় তিন ভাইয়ের মাঝে শুধু মো. মাফিউল হাসান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এ বছর সেই আফসোস পুষিয়ে নিয়েছেন বাকি দুই ভাই। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় মো. সাফিউল ইসলাম দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল ও মো. রাফিউল হাসান নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

উচ্চ মাধ্যমিকে থাকার সময় মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন বোনা শুরু হয় বলে জানান রাফিউল হাসান। তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার জন্য বগুড়ায় থাকা শুরু। তখন দেখতাম বায়োলজি পড়তে ভালোই লাগতো। ইঞ্জিয়ানিয়ারিংয়ের জন্য গণিত লাগে। কিন্তু গণিত কম পছন্দ করতাম। সে জন্য মেডিকেলের দিকে অগ্রসর হই। তারপর মনে হলো ডাক্তারি একটা মহান একটা পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষকে সরাসরি সেবা দেওয়া যায়।

মেডিকেলে ভর্তির জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে বললেন রাফিউল। তারা তিন ভাই চিকিৎসা শাস্ত্রের পড়ার সুযোগ পাওয়ায় অনেক খুশি তিনি।

রাফিউল আরও বলেন, তিন ভাইয়ের এক সঙ্গে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ সাধারণত দেখা যায় না। অনেক সময় এক গ্রামে হয়তো একজন সুযোগ পায়। সেখানে তিন ভাই এমন সুযোগ পাওয়া বিরল ঘটনা। প্রথমবার চান্স না পেয়ে খারাপ লাগেনি। বরং মনে হয়েছে, এই যে টাকা খরচ হয়েছে তার কিছুটা উসুল হলো। আর আমাদের তো আরেকবার সুযোগ ছিল, তাই ভেঙে পড়িনি।

প্রথমবার পরীক্ষায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের দন্ত বিভাগে পড়ার সুযোগ পান মাফিউল হাসান। তবে ভর্তি হয়েও মন খারাপ ছিল বাকি দুই ভাইয়ের জন্য। মাফিউল বলেন, সায়েন্সের ছাত্র হিসেবে সবার মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে ফোকাস করা উচিত। নিপীড়িত মানুষের কাছে সবচেয়ে খারাপ সময়ে সেবা দেওয়ার একটা জায়গা হলো ডাক্তারি পেশা। সেখান থেকে মূলত ডাক্তারি পেশায় আসার প্রবল ইচ্ছা ছিল আমার। সেই কারণে তিন ভাই মেডিকেল প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রথমবার আমার হলেও দুই ভাইয়ের অল্পের জন্য মিস হয়। এ জন্য আমিও কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর পরবর্তী সময়ে তারা পুনরায় স্টার্ট করে। সেই ধারাবাহিকতায় দুই ভাইও সরকারি মেডিকেলে চান্স পায়। যারা আমাদের দুঃসময়ে পাশে থেকেছে তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সাফিউল ইসলাম বলেন, আমার ইচ্ছা আমার গ্রামের মানুষ যারা গরিব, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা ও হুজুরদের নিয়ে কাজ করা। আমি যখন ভালো ডাক্তার হব, ছুটিতে এলে তাদের ফ্রি চিকিৎসা দেব।

তিন ছেলের মা আর্জিনা বেগম বলেন, এরা ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় ভালো ছিল। ভালো রেজাল্ট করেছে। আলাদা কোনো গাইড দেওয়া লাগেনি। নিজের ইচ্ছায় তারা পড়ালেখা করেছে। পাইলট স্কুল থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পায়। তখন ঠিক করলাম, লেখাপড়া ভালো মতো করাব। শিক্ষকের ছেলে, যেন তার নাম থাকে। তখন তাদের পিছে টাকা খরচ করেছি, যাতে মানুষের মতো মানুষ হয়। তারপর তারা মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। এ জন্য আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।

সন্তানদের পড়ালেখা করাতে নিজের জমি বিক্রি করেছেন আর্জিনা বেগম। বললেন, আমার শেরপুরের জমিটা বিক্রি করেছি। বাপের বাড়ির জমি ছিল সেটাও বিক্রি করেছি। জমি বিক্রি করেই এতদূর পড়াইছি। এখন সরকার যদি আমার ছেলেদের পড়ালেখার খরচটা দেখে তাহলে উপকার হয়।  

মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়া তিন ভাইয়ের চাচা ও ধুনট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম ফারুক বলেন, ওদের বাবা তো ২০০৯ সালে মারা যান। তিনি ছিলেন হাইস্কুলের শিক্ষক। ওদের মা এই সংসারের হাল ধরেছেন। ওদের মা অনেক কষ্ট করে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা ছিল। কিন্তু পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। আমরাও তাদের উৎসাহিত করেছি।  ঢাকা পোষ্ট

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar