স্টাফ রিপোর্টার।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার (২৭ আগস্ট)। বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত এই সাহিত্যিককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম নেওয়া নজরুল ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৭৭ বছরের জীবনে তিনি মাত্র ২৩ বছর ছিলেন সৃষ্টিশীল, তবে এই সময়ে তার কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটক ও উপন্যাস বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
“বিদ্রোহী” কবিতা দিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়েছিলেন নজরুল। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯২৩ সালে আলিপুর কারাগারে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাগারে থেকেই তিনি লিখেছিলেন “রাজবন্দীর জবানবন্দী”। সেই সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয়। ১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন এবং একই বছরে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
আজ দিনটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহাপাঠ, দোয়া মাহফিল, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম তার লেখনী দিয়ে প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা আজও প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগায়।