নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (২৮ আগস্ট), রাত ৮টা ৪৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভোট না দেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনির প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার পানীয় জলের সংযোগ এক মাস ধরে বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গত ২৯ জুলাই থেকে এলাকার পাঁচটি রাস্তার কলের জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৫০০টি পরিবারের সদস্যরা, যারা বাধ্য হয়ে এখন দূষিত গঙ্গার জল ব্যবহার করছেন।
কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই কলোনিতে গত ২৭ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পাইপলাইন মেরামতির কাজ করা হয়। ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে হঠাৎই কলোনির জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বিশ্বাস জানান, বারবার পুরনিগমে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। অথচ একই রাস্তার পাশে থাকা অন্য কলোনিগুলোতে নিয়মিত জল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
জলের অভাবে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা বিবি বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চারা মুখ ধুতে গিয়ে ঘাটে পিছলে গঙ্গায় পড়ে যাচ্ছে। অনেকেই অল্পের জন্য ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাঁতার না জানা মানুষগুলোও বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন।”
দূষিত গঙ্গার জল ব্যবহারের ফলে শিশুদের জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের নানা রোগ দেখা দিচ্ছে বলে জানান সেখ মইনউদ্দিন। এছাড়া জলের অভাবে স্থানীয় মসজিদের ওজু এবং স্কুলছাত্রীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বসবাসকারী সরস্বতী বিশ্বাস জানান, অতীতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা কখনো হননি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। ভোটে জেতার পর এক জনসভায় তিনি মুসলমানরা তাকে ভোট দেননি বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুমন সিং এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।
বর্তমানে বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকা খরচ করে কেএমসি-র জলের ট্যাঙ্ক কিনছেন বাসিন্দারা। ‘পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি’-র নেতা অজিত শাসমল বলেন, “তিন-চার দিনের ব্যবধানে মাত্র এক ট্যাঙ্ক জল এত মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে বিজেপি গরিব মানুষদের হয়রানি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি রেজিস্টার্ড কলোনিতে এভাবে জল বন্ধ রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রের লজ্জা। আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ডেপুটেশন দিয়েছি এবং মানবাধিকার কমিশনকেও বিষয়টি জানিয়েছি।”
এদিকে বস্তি উচ্ছেদ রুখতে সমিতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আইনজীবী শামীম আহমেদ জানান, আদালত উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এখন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই জলের অধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জ্যোতিনগরের বাসিন্দারা।