নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
শনিবার (২৯ আগস্ট), রাত ১০টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামে বিয়ের এক মাসের মাথায় শীলা রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১৫ জুলাই যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা এলাকার সুজয় কুমার বোসের সঙ্গে শীলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী সুজয় ও শাশুড়ি রত্না রানীর সঙ্গে শীলার বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, শীলার ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়।
গত ১৬ আগস্ট রাতে শীলাকে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহতের সৎ মা শংকরী নাগ অভিযোগ করেন, শীলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নিহতের সৎ মা শংকরী নাগ বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
নিহতের পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পুলিশকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শীলার স্বামী সুজয় কুমার বোসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে পুলিশ।