নজরুল ইসলাম, যশোর
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যৌথ বিনিয়োগের নামে ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাসিন্দা মো. কবির ইকবাল। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিনিয়োগের অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কবির ইকবাল জানান, ২০১৪ সালে সঞ্জয় কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে সঞ্জয় কুমারসহ কয়েকজন যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় ‘হাজেরা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’, ‘হাজেরা রিসোর্ট’ ও ‘হাজেরা সিটি অ্যাপার্টমেন্ট’ নির্মাণের প্রস্তাব দেন। প্রায় ৬০ কোটি টাকার এই যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পে মালিকানা ও নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের প্রলোভন দেখানো হয়।
কবির ইকবাল বলেন, “প্রকল্পে বিনিয়োগের অনুপাতে মালিকানা এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া ভারতীয় চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, এসব আশ্বাসে বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদে মোট ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। সঞ্জয় কুমার, এম এম আখতারুজ্জামান, আনিসুজ্জামান, মোস্তাক আহমেদ ও আকবর হোসেন সুমনের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি এবং বিনিয়োগের অর্থও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী (মামলা নম্বর: ৭৪৭/২০২৬, পল্টন)।
কবির ইকবাল বলেন, “আমি কোনো সংঘাত চাই না। আইনগত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজের অর্থ ফেরত পেতে চাই। এ জন্য যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরার প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সঞ্জয় কুমার, এম এম আখতারুজ্জামান, আনিসুজ্জামান, মোস্তাক আহমেদ ও আকবর হোসেন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।