রাজু মিয়া / কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর), দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লালমনিরহাটের উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে বহিরাগত ব্যক্তিদের দাপ্তরিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে ভূমিসেবা প্রদান বা দাপ্তরিক কাজ না করার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালচক্রের সক্রিয়তা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে রেকর্ড যাচাই না করেই নামজারি সম্পন্ন করা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমির নামজারি করার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতী মৌজার নামজারি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে ভুক্তভোগী জছির আলী অভিযোগ করেন, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দালালচক্রের মাধ্যমে নামজারি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমি নিয়েও নামজারি সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব (এসএ) শাখার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনুমোদিত সরকারি কর্মচারী ব্যতীত কোনো বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে না। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শাহরিয়ার তানভীর আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় ভূমি অফিসের দাপ্তরিক কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও প্রতিকার
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবা পাবেন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।