নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর), রাত ৯টা ১৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোমহর্ষক সাক্ষ্য দিয়েছেন র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। জবানবন্দিতে তিনি ২০১১ ও ২০১২ সালে সুন্দরবনে জিয়াউল আহসানের পরিচালিত তিনটি ‘সাজানো’ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান ওসমানী জানান, জিয়াউল আহসান বিভিন্ন সময় তাকে সরাসরি ফোন করে আভিযানিক নির্দেশনা দিতেন। তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালের নভেম্বরে নিশানখালী, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কটকা এবং একই বছরের মার্চে মরা ভোলা এলাকায় পরিচালিত অভিযানগুলো ছিল সাজানো।
নিশানখালীর অভিযানের বিষয়ে সাক্ষী বলেন, মূল দল পৌঁছানোর আগেই গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযানে দুটি লাশ উদ্ধারের কথা বলা হলেও মামলার নথিতে ছয়টি লাশ দেখানো হয়। তার দাবি, অতিরিক্ত চারটি লাশ গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কটকা ও মরা ভোলার অভিযানের বর্ণনায় তিনি জানান, হাত বাঁধা ব্যক্তিদের ট্রলারে করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে অভিযানের নামে লাশ উদ্ধার দেখানো হয়। এসব হত্যাকাণ্ডকে জিয়াউল আহসান সাংকেতিক ভাষায় ‘গলফ অপারেশন’ বলতেন।
সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রসিকিউশনের প্রতিক্রিয়া
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে অভিযানের ধরন, ভিকটিমদের হত্যা এবং লাশ গুম করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আসামির সঙ্গে সাক্ষীর ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না, অনুশোচনা থেকেই তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। আমার মনে হয়, এই সাক্ষ্য জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সহায়ক।’
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।