আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর), দুপুর ২টা ১১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বহুবিবাহের নতুন অভিযোগ উঠেছে। এক ফ্ল্যাটে অন্য নারীর সঙ্গে অবস্থানকালে নিজেকে মাহবুবের ‘৬ নম্বর স্ত্রী’ দাবি করা এক নারীর বাধার মুখে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নারীর দাবি, মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে নিজেকে তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী সেখানে উপস্থিত হয়ে দরজায় আঘাত করে প্রতিবাদ জানান। ফ্ল্যাটের বাইরে ওই নারীর হট্টগোল এবং ভেতরে অপর নারীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, তথ্য গোপন, প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তাঁর চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীর তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পূর্বের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে তাঁকে বিয়ে করা হয়। একই সঙ্গে জোরপূর্বক গর্ভপাত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে চন্দ্রিমা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তাঁর কার্যালয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাসহ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।