মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ ভাইয়ের বসতঘরে ডাকাতি এবং এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাংবাদিকের বাড়িতে চুরির অভিযোগসহ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেন খলিফার পাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেনের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর বাবা মো. আবু তাহের জানান, রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর চোরের দল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, কাপড়চোপড় এবং এক ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গা ঘোনা হাকিমিয়া পাড়ায় পাঁচ ভাইয়ের বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুখোশ পরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ ২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও আটটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা লুটপাট শেষে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ঘটনার রাতে বাড়িতে প্রবেশের পরপরই ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে আমাদের মারধর করে এবং পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। আমার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায়। আমার চার ভাইয়ের ঘর থেকেও ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, দুটি সাধারণ মোবাইল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।”
ঘটনার কয়েক দিন আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ভুক্তভোগী ভাইয়েরা। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।