রকি হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর), দুপুর ২টা ৪৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জল মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের হুমকি ও হামলার মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার। মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ প্রতিনিয়ত চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
নিহত উজ্জল মিয়া রায়টুটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ মে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ২৬ জুন আদালতের নির্দেশে ইটনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাগিনা মোশাররফ হোসেন। মামলা নম্বর-১০(৬)২৬।
বাদী মোশাররফ হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আমার মামা উজ্জল মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই রফিকুলের লোকজন আমাকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। বর্তমানে রফিকুল ও তার লোকজনের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”
নিহতের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীকে রফিকুলের লোকজন মারধর করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদেরও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার কোনো ছেলে নেই। তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
গত ২৮ আগস্ট দুপুরে মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন ও তার আত্মীয়-স্বজনের ওপর রফিকুল ইসলামের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ১২ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগের বিষয়ে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) নাজমুস সাকিব বলেন, “ইটনা থানার রায়টুটি ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। এখনো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”