প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর), দুপুর ১টা ২০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর সাত বছর বয়সী শিশু মুসলিমা শেখের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর সন্ধ্যায় উপজেলার কচুড়িয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের একটি পানের বরজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মুসলিমা ওই গ্রামের ইসলাম শেখের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে মুসলিমা খেলতে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর শেখের বাড়ির পানের বরজের পাশে কলাগাছ ও আবর্জনা দিয়ে ঢাকা একটি বস্তা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বস্তাটি খুলে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
শিশুটির বাবা ইসলাম শেখ অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
চাঁদা দাবি ও অগ্নিসংযোগ
মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখের বসতঘর, রান্নাঘর, মুরগির ঘর ও পানের বরজে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলে রমজান শেখ ও আব্দুর রহমান শেখকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পুলিশ জানায়, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে শিশুটির চলাফেরা, সম্ভাব্য হত্যাস্থল এবং চাঁদা দাবির অভিযোগসহ সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।