প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের চলাচলের পথ টিন ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাধা দিতে গেলে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম এবং এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন তাদের বাড়ির সামনে এসে টিন ও বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত আজগর আলী মৃধা বলেন, “হামলাকারীরা আমাকে ধারালো দা দিয়ে আঘাত করলে আমার বাম হাতের তালু ও ডান হাতের কবজির নিচে কেটে যায়। পরে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি এবং ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই লেগেছে।”
সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে স্টিলের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানি করা হয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগ
পরিবারটির দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা ওই জায়গাটি চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এটিই তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রধান পথ। বর্তমানে পথটি বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্করা অবরুদ্ধ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় আমিনুর রহমান ও মারুফ শিকদারসহ কয়েকজন বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেন। তারা চলাচলের জন্য দুটি টিন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মিজান শেখ নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং উপস্থিত লোকজনকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার দুই দিন আগে ১০ সেপ্টেম্বর সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী নূরুল ইসলাম চিতলমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১২ সেপ্টেম্বর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সরেজমিন তদন্ত এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিজান শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।