নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর), ২০২৬ | রাত ৮:৪৮
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ধর্ষণের শিকার ১০ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে আশ্বস্ত করে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন ভারতের এক নারী বিচারক। রায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করে বিচারক রজনী রাঙ্গা চিঠিতে লিখেছেন, ওই ব্যক্তি আর কখনো মুক্ত অবস্থায় সূর্য দেখতে পারবেন না এবং তার বাকি জীবন কারাগারের খাঁচাতেই কাটবে।
২০২৩ সালে সাত বছর বয়সী ওই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। গত ১১ জুলাই নিম্ন আদালতের বিচারক রজনী রাঙ্গা এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন।
বিচারক রজনী রাঙ্গা চিঠিতে লেখেন, “যখন তুমি বলেছিলে, এই কাকুটি বৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন জেলেই রাখা হয়, তখন আদালত তোমার আবেদনে সাড়া দিয়েছে। আজ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, যাকে তুমি ‘আঙ্কল’ বলে ডাকতে, তিনি আর কখনো মুক্তি পাবেন না। তিনি সেই খাঁচাতেই বৃদ্ধ হবেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হবে।”
আদালতের আনুষ্ঠানিক ভাষার বাইরে গিয়ে লেখা এই চিঠিতে বিচারক শিশুটির সাহসের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আদালত তোমাকে তোমার শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তবে তুমি এখন তোমার জীবন উপভোগ করো। স্কুলে যাও, বন্ধু তৈরি করো, স্বপ্ন দেখো। এই আদালত তোমার সাহসের কথা সব সময় মনে রাখবে।”
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানালে বিষয়টি সামনে আসে। হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বিচারকের লেখা এই চিঠির অনুলিপি শিশুটিকে প্রদানের নির্দেশ দেয়।
ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন রোধে পকসো (প্রটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস) আইনের অধীনে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিচিত ব্যক্তিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে।
বিচারক রাঙ্গা তার আদেশে উল্লেখ করেন, অপরাধের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগী শিশুর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করেই তিনি এই আদেশ দিয়েছেন। এটি মূলত শিশুটির মানসিক নিরাময় ও পুনরুদ্ধারের একটি প্রয়াস।