দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা ওরফে টেঙ্গর (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
সংঘর্ষে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের প্রায় সাতজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালের দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গর ওই গ্রামের মৃত তৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, ভারত থেকে আসা মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাহার এবং পটল মন্ডলর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত দুই-তিন দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময়
কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে পটল গ্রুপের প্রধান পটলের ছোট ভাই টেঙ্গর পেটে বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষে সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৪), আজাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০) আহত হয়েছে। তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাদেও স্বজনরা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, দুটি গ্রুপের বিরোধ কয়েক দিন ধরে চলে আসছিল।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম চরাঞ্চলে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এলাকাটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুলিশ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জড়িতদের আটকে ঐ এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।