পাবনা প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতা ছায়দার রহমান মালিথাকে (৫০) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের নজুর মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ছায়দার রহমান পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
জানা যায়, নজুর মোড়ে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বসে ছিলেন ছায়দার রহমান। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছায়দারকে ঘিরে ধরে। ভয়ে সায়দারের সঙ্গে থাকা অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার সময় সবাই মসজিদে নামাজ পড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে কে বা কারা ছায়দার রহমানকে গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত ছাড়া এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
নিহত সায়দার রহমানের নাতি সাদ্দাম মোল্লা জানান, দুপুরে ফোন করে তিনি (সায়দার) তাকে (সাদ্দাম) ডাকেন। বাজারে কথা বলা শেষ করে জুমার নামাজ পড়ার জন্য বাড়ির দিকে রওয়ানা হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা জাহান বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক চেয়ারম্যানের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কয়েকদিন ধরে সাবেক ওই চেয়ারম্যান আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবারও হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ্যে তাকে মেরে ফেলা হলো। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চাই।’ পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান সুমন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ছায়দারকে খুন করেছে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এ হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়া হবে।
পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।