স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট), রাত ৯টা ৩৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে সাগরে হাউসবোট ডুবে নিউজিল্যান্ডের এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করা ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। এমনকি পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টের মেয়াদও গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়ে গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সাগর থেকে আলবার্ট (১৬) নামের ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার নৌকাডুবির ঘটনায় আলবার্ট নিখোঁজ ছিল।
নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড (৭৪), তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও দুই ছেলেকে নিয়ে ২০২৪ সালে টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। কক্সবাজারের এসএম পাড়া উপকূলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামে একটি আধুনিক হাউসবোট তৈরি করে তারা সেখানে বসবাস শুরু করেন। মাঝেমধ্যে সমুদ্রযাত্রায় বের হলেও তারা কক্সবাজার উপকূলে ফিরে আসতেন।
উদ্ধার হওয়া কিশোর রালফ জানায়, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা হাউসবোট নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। সে জানায়, আলবার্ট সাঁতার জানত না এবং দুর্ঘটনার সময় তার লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকভাবে আটকানো ছিল না।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলেরা জন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে রালফকে জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রায় ৩২ ঘণ্টা তল্লাশির পর বুধবার বিকেলে আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জীবিতরা
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া তিন নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, নিউজিল্যান্ডের ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। তাদের পাসপোর্টের মেয়াদও ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এমনকি ১৩ বছর বয়সী ছোট ছেলে রালফের ভিসা-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।
বোটডুবির খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বুধবার বিকেলে কক্সবাজারে পৌঁছান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জীবিতদের দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছিল পরিবারটি। সে সময় কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। তখন পাসপোর্ট যাচাই করে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি জানা গেলেও তারা পুনরায় সাগরে পাড়ি জমায়।