মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর), সকাল ১০টা ২৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকায় সরকারি পাহাড় ও টিলা কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ, ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক নারী।
গত ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৭১২০ দাগভুক্ত সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পাহাড় কাটছে। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ লিয়াকত, শুক্কুর ও জিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ট্রাক, ডাম্প ট্রাক ও এসকেভেটর ব্যবহার করে দিন-রাত পাহাড় কাটছেন। কাটা মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, নিচু জমি ভরাট এবং বাণিজ্যিক প্রকল্পে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে রাজঘাটা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেতু ও কালভার্ট ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অভিযুক্ত শুক্কুর পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, “এটি আমার খতিয়ানভুক্ত পাহাড়, তাই আমি পাহাড় কেটেছি।”
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদ বিন আকন্দ বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী যেকোনো মালিকানার পাহাড় কাটা আইনত অপরাধ এবং এটি পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”