সংবাদদাতা
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ফরিদপুর শহরের হাউজিং এস্টেট আবাসিক এলাকার সরকারি সড়কের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত খান রাজুর বিরুদ্ধে। প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সড়কের জমির বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাউজিং এস্টেট আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ২২ নম্বর সড়কের পাশে ২৯ নম্বর প্লটের মালিক আবুল হাসনাত খান রাজু। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার প্লটের পাশের সরকারি ৩০ নম্বর প্লটের সামনের সড়কটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে সেখানে ‘মদিনা স্টিল ফার্নিচার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মাসে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল হাসনাত খান রাজু বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই জায়গাটি ব্যবহার করছি। বর্তমানে সেখানে মানুষের চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আশপাশের জমিগুলো আমাদের হওয়ায় সড়কটি আমরা ব্যবহার করছি।”
হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান লাবলু জানান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এসব প্লট পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩০ নম্বর প্লটের সামনের সড়কে স্থাপনা তৈরি করায় ভবিষ্যতে ওই প্লটের বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি সরকারি সড়কটি দখলমুক্ত করতে দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, “আবাসিক এলাকার জায়গা দখলের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যশোর ও খুলনা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।”
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মন্দীপ ঘরাই বলেন, “অবৈধ দখলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে এবং বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে হোক বা অন্য কেউ—জমি দখলের কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীদের স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”