নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬), সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান ও পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা ও প্রাক-পাইলটিংয়ের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।
কৃষক কার্ডের সুবিধা ও লক্ষ্য
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষি বীমা, আবহাওয়া তথ্য ও বালাইনাশক পরামর্শসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, “কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাদের চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, “কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড প্রদান করা হবে।”