যশোর প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের চুড়ামনকাঠিতে এক তরুণীকে দুশ্চরিত্র আখ্যা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অপরাধে ইউপি সদস্যসহ ৪ জন কে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে,এদিন চুড়ামনকাঠির এনায়েতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ওই তরুণীকে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান তার সহযোগীদের সাথে কোন কারন ছাড়াই নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। এ ঘটনায় মামলা দেয়ার পর পুলিশ ইউপি মেম্বারসহ চারজনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হচ্ছে, চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের আব্বাসের ছেলে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান (৩৫) একই গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (৪০) নাছেরের ছেলে ভুট্ট (২৭) ও মৃত আব্দার আলীর ছেলে আব্দুল আলিম ওরফে খোকন (৩৮)।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের তরুণী ইতি খাতুনকে (২০) গত ১৫ মার্চ জনৈক রশিদের মুদি দোকানের সামনে পৌছুলে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে দোকানের মধ্যে নিয়ে মারপিট করে নির্যাতন চালান স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান ও তার সহযোগীরা। এ সংক্রান্ত একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করছে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান। ওই তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ইউপি সদস্যর পাশে থাকা কয়েক যুবক নির্যাতনে অংশ নেয়। নির্যাতিত তরুণী বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতিত ইতি খাতুন জানান, গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যার পর পার্শ্ববর্তী এনায়েতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিল থেকে বন্ধু সাঈদের সাথে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জনৈক রশিদের মুদি দোকানের সামনে পৌছুলে আনিচুর মেম্বার, আইয়ুব আলী, খোকন ও ভুট্টোসহ কয়েকজন মারপিট করে। তারা আমার কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। তারা আমাকে খারাপ কথা বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাচ করে ও দুশ্চরিত্র আখ্যা দিয়ে আটকে মারপিট করে। এ সময় সঙ্গীয় সাইদ হাসান ঠেকাতে গেলে তাকেও মারপিট করা হয়।
ইতি আরো বলেন, আমাকে মারপিটের খবর পেয়ে আমার পিতাসহ বাড়ির লোকজন ঘটনা স্থলে যেয়ে আমাকে ছাড়িয়ে এনে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার পিতা মারার কারণ জানতে চাইলে মেম্বার আনিচুর আমার পিতার কলার ধরে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে ও হুমকি দেয়।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দাউদ হোসেন বলেন, নির্যাতিত মেয়েটি, তার বাবা-মাসহ কয়েকজন আমার কাছে বিচার নিয়ে এসেছিলো। আমি মেয়েটির কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমি তাদের আইনের দারস্থ হতে পরামর্শ দিয়েছে। আমিও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক সেই প্রত্যাশা করি।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ইতির পিতা সাহেব আলী ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ২/৩ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমানসহ চারজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার দারোগা এস আই সালাহ উদ্দিন জানান, শনিবার (১৯ মার্চ) আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।