মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রতারণা করে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগে জিয়া উদ্দিন ওরফে জামানকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব।
সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বিষয়টি সিটি নিউজ ঢাকাকে নিশ্চিত করেছেন। একটি খুদে বার্তায় তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কারওয়ানবাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফ করে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে শনিবার (৯ এপ্রিল) ‘ফোসান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিনের বিচার দাবি’ শিরোনামে সিটি নিউজ ঢাকায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযান।
জানা গেছে, জিয়া উদ্দিনের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার সন্যাসী গ্রামে। তিনি জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমলে জামায়াত এমপি আব্দুস সাত্তারের পিএস ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি তোলেন। সেসব ছবি দেখিয়ে নিজেকে ক্ষমতাবান হিসেবে পরিচয় দেন এবং প্রতারকচক্র গড়ে তোলেন।
তার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ঋণের টাকা উত্তোলনের জন্য ভুয়া কাগজপত্র দাখিল, ব্যাংকে ভুয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল, নিজের কোম্পানিতে টাকা লগ্নি করার জন্য ‘অংশীদার’ বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, টাইলস কোম্পানির নামে টাইলস সরবরাহের কথা বলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।
এর আগে ফোসান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা। জিয়া উদ্দিনের নামে এসব অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ফোসান গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্য দাবি করছে, কোম্পানিটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ২০টির বেশি। অনেক তালাশ করেও কোনোটির মেলেনি অস্তিত্ব। হরেক প্রতিষ্ঠানের নামে ‘প্রতারণার দোকান’ খুলে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে জিয়াউদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন ।