নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হয়ে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ(৫৫) নামে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার ভোরে উপজেলার চন্ডিগড ইউনিয়নের মধুয়াকোনা গ্রামের ১৮৫ দাগ নাম্বারের ভূমিতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে এ ঘটনায় রোববার বিকেলে আহতের ছোট ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে দূর্গাপুর থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, ১। মোঃ সেলিম মিয়া (২৭) ২। নিজাম উদ্দিন (৫৫) ৩। আজিম উদ্দিন (৫২) ৪। মুন্না মিয়া (২৫) ৫। আক্রম আলী (৩০) ৬। মারফত আলী ৭। বাবুল মিয়া (৪৫) পিতা- আশ্রব আলী। সকল অভিযুক্তদের বাড়ি মধুয়াকোনা গ্রামে।
সোমবার অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। অভিযোগের বিবরন থেকে জানা যায়, মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ গত বাইশ বছর পূর্বে ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া জমি অদ্যবদি ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজের বৈধ ভূমি হইলেও অভিযুক্তরা লোভের বশবর্তী হইয়া অন্যায়ভাবে সে ভূমি বেদখল করার চেষ্টা করে। পরে এ ভূমি নিয়া বিরোধের সৃষ্টি হইলে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, দুর্গাপুর, নেত্রকোনায় একটি মোকদ্দমা দায়ের করে্ন। যার মোকদ্দমা নং- ৫০/-২ অন্য। পরে উক্ত মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত একতরফা সূত্রে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজের পক্ষে ডিক্রি জারি করিয়া উল্লেখিত ভূমি বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সাফ কাওলা দলিল সম্পাদন করার নির্দেশ প্রদান করিলে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ বর্ণিত ভূমি আদালতের মাধ্যমে সাফ কাওলা দলিল সম্পাদন করিয়া নিয়া ভোগ দখল করিতে থাকে।
এমতাবস্থায় রোববার ভোর ৬ টার দিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে অভিযুক্তরা স্ব-স্ব হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়া বর্ণিত ভূমিতে যায়। এ খবর শুনে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ গিয়ে দেখতে পাই বর্ণিত ভূমিতে অভিযুক্তরা প্রবেশ করে উক্ত ভূমিতে ধান রোপন করতেছেন । এ বিষয় দেখে সে অভিযুক্তকে ধান রোপনে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্লীল অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। পরে সে প্রতিবাদ করিলে অভিযুক্তরা এলোপাথারী মারপিট করে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর যন্ত্রনাদায়ক নিলাফুলা জখম করে। পরে তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এছাড়াও পূর্বে উক্ত ভূমি নিয়া এলাকায় ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক দরবার শালিস হয়। সেসব দরবার শালিসে মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজের পক্ষে রায় হইলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে।
চন্ডিগড় ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আলম সরকার বলেন,আদালতের ডিগ্রি অনুযায়ী বর্তমানে ওই ভূমির মালিক মোঃ হাফিজ উদ্দিন ফিরোজ। দুই পক্ষ আমার কাছে আসলে আমি সে কথা বলি।
সোমবার অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক , আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে বসবো এই বিষয় নিয়ে।