এ আর রাকিবুল হাসান,, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাবা দিন মজুর। কাজের বিনিময়ে চলে তাদের সংসার। তার পরেও কষ্ট পেতে দেয়নি ছেলে মেয়েকে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংসার চালাতে হয়। এতে করে সংসার চলে খেয়ে না খেয়ে । তবুও পরিবার নিয়ে বুক ভরা স্বপ্ন মাথায় নিয়ে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন দিন মজুর আশরাফুল আলম। কিন্তু আশরাফুল আলমের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হল মোবাইল ফোনের জন্য । শুধু এন্ড্রয়েড ভার্সন মোবাইল ফোন কিনে দিতে না পারায় তার আদরের সন্তান গলায় ফাঁস দিয়ে অভিমান করে আত্নহত্যা করেছে ।
এ ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়ার দক্ষিন কামালপুর এলাকায় । মজুর আশরাফুল আলমের ছেলে নিহত ফরহাদ হোসেন ছিলেন মঈনুল হক উচ্চ বিদ্যলয়ের সপ্তম শ্রেনির ছাত্র ।
নিহতের চাচা শাহিন আলম জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে ফরহাদ হোসেন একটি এন্ড্রয়েড ভার্সন মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছিল । কিন্তু দরিদ্র পরিবারে তার চাহিদা পুরণের সার্মথ না থাকায় তাকে অপেক্ষা করার জন্য বলে আসছিলেন মা-বাবা। পরে তার বাবা কাজের সন্ধানে কুমিল্লা গিয়ে কাজ করে টাকা সংগ্রহ করে তাকে মোইল কিনে দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাবার একথা টালবাহানা ভেবে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর ) সকাল বেলা্য মায়ের ব্যবহৃত কাপড় পেঁচিয়ে নিজ ঘরের ধর্নায় গলায় ফাঁস দেয়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ওই এলাকার সিদ্ধিক মিয়া জানান বশত ভিটায় দুইটি ঘরে পরিবারকে নিয়ে বসবাশ করেন আশরাফুল আলম । জমাজমিও নেই । ছেলের চাহিদা মিটানোর জন্য অনেকের কাছে টাকা ধার চেয়ে ছিল আশরাফুল । এর মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে গেল তার পরিবারে।
মঈনুল হক উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই জানান ফরহাদ হোসেন ছিলেন মেধাবী ছাত্র। শুনেছি তাকে মোবাইল কিনে না দেয়ায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান ,গরীব পরিবারে দামি মোবাইল কিনে দেয়ার সার্মথ না থাকায় অভিমান করে আর্তহত্যা করেছে।
ফুলবাড়ী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ তামান্না জানান রোগীকে নিয়ে আসার আগেই সে মারা গেছে।