টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা, সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। এসব ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। নির্বাচনী জনসভা ও প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাশাপাশি কথার লড়াই অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিনে দেশে ৪২টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত এবং ৩৫৩ জন আহত হন। জানুয়ারির ১ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৫টি সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন, আহত হয়েছেন ৫৫৫ জন।
সর্বশেষ শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। তপশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চলবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বড় বাধা নয়। তবে মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির মনে করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রমাণ করে যে নির্বাচনী পরিবেশ এখনও সহনশীল হয়নি। তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও কার্যকর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্টভাবে সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থানের আহ্বান জানান।
পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, তপশিল ঘোষণার পর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২০০টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক হত্যা, সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হুমকির মতো ঘটনা রয়েছে।
আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশজুড়ে শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজারো আহত হয়েছেন, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
#আরএ