নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬), দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। দীর্ঘ ১২ বছর পর বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৯তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা যৌক্তিক করার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, “জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এর সাথে সাযুজ্য রেখে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এটিও ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। পরের বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা
সরকার পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বর্তমানে অবসরভোগীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সকল গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই বেতন স্কেলের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ খুব শীঘ্রই বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ নিয়ে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।