নিউজ ডেস্ক
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, রাত ৮টা ২৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সচল রাখতে এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে পারছে না। ভর্তুকি দিলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেল আমদানির বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বছরে দেশে ৭০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করতে হয়, যার ৪৫ লাখ মেট্রিক টনই ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২০৫ টাকা। দাম বৃদ্ধির পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারকে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই দাম সমন্বয় না করলে বছরে সরকারকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো।
তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পাচারের বড় ঝুঁকি ছিল। আশা করি, জনগণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, রোববার রাত ১২টা থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় বিপিসিকে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই সরকার বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। জনগণকে প্রতি মাসে জ্বালানি তেল কিনতে অতিরিক্ত ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।