নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি
রবিবার (১৮ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে শ্যালিকার করা ধর্ষণ মামলায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রবিবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক (জেলা জজ) শিহাবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী নিজেই আদালতে অভিযোগটি মিথ্যা বলে স্বীকার করায় বিচারক এ রায় প্রদান করেন।
মামলা ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন তার শ্যালিকা সামিয়া। এর আগে সামিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মামলার তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে পুলিশ।
রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী সামিয়া দাবি করেন, একটি চক্র তার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, “একটি চক্র আমাকে অপহরণ করে আটকে রেখেছিল এবং প্রলোভন ও চাপের মুখে ক্যামেরার সামনে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ডা. রাফসান জানির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।”
ডা. রাফসান জানির আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোট বলেন, “সামিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘বর্ডারলাইন পারসোনালি ডিসঅর্ডার’ রোগে আক্রান্ত। একটি চক্র তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেইল করে মনগড়া অভিযোগ করতে বাধ্য করেছিল। আদালতে সামিয়া নিজেই ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয় বলে স্বীকার করেছেন।”
রায় ঘোষণার পর ডা. রাফসান জানি অভিযোগ করেন, তিনি একটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও কিছু সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি আমার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।