নিউজ ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পিস্তল উঁচিয়ে দৌড়ানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি প্রদর্শন করেছেন। তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, কর্মসূচিস্থলে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী মারমুখী ভঙ্গিতে গাড়িবহরের দিকে ধেয়ে আসলে জানমালের নিরাপত্তায় তিনি অস্ত্র বের করেন।
ঘটনাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা মাদক প্রতিরোধে একজন প্রতিমন্ত্রীর এই ধরনের পদক্ষেপ মোটেও আইনসঙ্গত নয়। তিনি তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সীমারেখাও লঙ্ঘন করেছেন।”
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন করা গেলেও অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। আইনজীবী শাহদীন মালিক আরও বলেন, “অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়া হয় আত্মরক্ষার জন্য, অন্যদের হুমকি বা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়। এটি লাইসেন্সের শর্তের পরিপন্থী।”
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই ডিএমপি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অভিযান শেষে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সুত্র-বিবিসি