নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ২০২৬, রাত ৮টা ৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এই ভাতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী কৃষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে।
চলাচলের সুবিধার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব সুবিধা না থাকলে ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বক্তব্য দেন। বিপিকেএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় সভায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।