টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা নির্বাচনে নেই। শীর্ষ নেতাদের কেউ আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে থাকলেও দেশে রয়ে গেছে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক। সামাজিক মাধ্যমে ভোট বর্জনের আহ্বান থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই ভোট ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে স্থানীয়ভাবে সুবিধাজনক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, আর না গেলে ভোটার উপস্থিতি কমবে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের কাছে টানার কৌশল নিচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেএম মহিউদ্দিনের মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটশেয়ার ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী নির্বাচনগুলো বিতর্কিত হলেও দীর্ঘ সময়ের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও তাদের ভোটব্যাংক পুরোপুরি ক্ষয় হয়নি।
সাম্প্রতিক জরিপেও আওয়ামী লীগের সমর্থনের একটি স্থির অংশ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, দল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না থাকলেও অনেক কর্মী নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে কাজ করছেন। বিএনপি নেতারা আওয়ামী সমর্থকদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন। জামায়াতের নেতারাও সব দলের সমর্থকদের ‘ভাই-বন্ধু’ হিসেবে দেখার কথা বলছেন।
তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন, ভোট টানতে দেওয়া আশ্বাসের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। বদিউল আলম মজুমদারের মতে, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া নির্বাচনী উৎকোচের শামিল। জাতীয় পার্টিও মনে করছে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক উপেক্ষা করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।
#আরএ