ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন কারাগারে থাকা বন্দিরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের কারাগারগুলোতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ২৫ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ৪৯ জন ‘ভিআইপি’ বন্দির ভোটাধিকার প্রয়োগ।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৮৭ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জন ভোট দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেয়েছেন। এই তালিকায় হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি।
পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করা সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, ডা. দীপু মনি এবং আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার মতো আলোচিত ব্যক্তিরাও কারাগার থেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির বন্দি নেতারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে সাধারণ বন্দিদের মধ্যে নিবন্ধনের হার বেশ কম—প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র সাতজন আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বন্দিদের একটি বিশাল অংশ কেন ভোট দিতে পারছেন না, তার কারণ হিসেবে এনআইডি কার্ড না থাকাকেই মূল হিসেবে দেখছেন কারা কর্মকর্তারা। এছাড়া জামিন পেলে বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না—এমন আশঙ্কায় অনেক সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন আসামি নিবন্ধন করেননি। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, একবার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করলে জামিন পেলেও কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ভোট দেওয়া যায় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, অনেক বন্দি নিজেদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রকাশ করতে চান না বলেই ভোট থেকে দূরে থাকছেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফরহাদ জানিয়েছেন, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ভোট শুরু হয়েছে যা চলবে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বন্দিদের জন্য বিশেষ তিনটি খামের একটি প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তারা ব্যালট পেপারে সিল মেরে আঠা দিয়ে খাম বন্ধ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন। ডাক বিভাগের ‘এক্সপ্রেস’ সার্ভিসের মাধ্যমে এই ব্যালটগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে, যা মূল নির্বাচনের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় গণনা করা হবে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকার দুটি বিভাগে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৫৯ জন বন্দি ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেটে নিবন্ধনের হার তুলনামূলক বেশি হলেও অন্যান্য বিভাগে এই সংখ্যা ৫ শতাংশেরও কম।